ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের-সবখবর

জাতি যেখানে দাঁড়ায়, সেখানে কোন স্বৈরাচার দাঁড়াতে পারবে না : ডা. শফিকুর রহমান

প্রতিবেদক
বার্তা বিভাগ
আগস্ট ২৯, ২০২৪ ৯:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

আবু বকর সিদ্দিক সিয়াম, সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটা জাতি যেখানে দাঁড়ায় যায়, সেখানে কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। আমাদের সবাইকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু এই যাওয়াটা যেনো প্রশান্তির হয়। শহীদের রক্ত শুকিয়ে গেছে, কিন্তু এটা যেনো আমাদের অন্তর থেকে চলে না যায়। এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তারা কি মারা গেছেন, নাকি বেঁচে আছেন তা কেউই জানেন না। ওই রাতগুলোতে অনেক কিছু ঘটেছে, যা আরেকবার ঘটেছিল ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে। যেখানে হাজার হাজার ওলামায়ের কেরামগণ উপস্থিত হয়েছিলেন। ওই রাতে তাদের সঙ্গে যে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। লাশগুলো কোথায় নেওয়া হয়েছে তা কেউ জানে না। কিন্তু আল্লাহ তো সবকিছু জানেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মুক্তিনগর এলাকার গ্রীন গার্ডেন রেস্টুরেন্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারের গর্বিত সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান ৪০ জন নিহত শহীদ পরিবারকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র- জনতার আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে নিহত পরিবারগুলোকে প্রতিমাসে আর্থিক সহযোগিতাসহ সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে। এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে নিহত পরিবারগুলোর পাশে আছে জামায়াতে ইসলাম।

শহীদ পরিবারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যে শহীদ পরিবারের কাছে যাই সেখানে কান্না ধরে রাখতে পারি না। আমাদের তো এতো টাকাপয়সা নাই। কিন্তু আমাদের ওলি আল্লাহর ভান্ডারে কোনো কমতি নাই। আমরা তাঁর উপর ভরসা করেই কথাগুলো বলার চেষ্টা করছি। আল্লাহ যেনো আমাদের ওয়াদার কথাটা ঠিক রাখেন। অনেক শহীদ পরিবারের সঙ্গে আমাদের মোলাকাত করার সুযোগ হয়েছিল। এই জাতি যেনো আমাদের এই শহীদ সন্তানদের ভুলে না যায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টাদের সঙ্গে বসেছিলাম। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছি। আপনারা চেষ্টা করুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। তারা কথা দিয়েছেন তারা কাজ করবেন। আপনারা দোয়া করবেন তারা যেনো করতে পারে। আমার দৃষ্টিতে এটা আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। দ্বিতীয় স্বাধীনতায় অবদান রাখা আমাদের শহীদদের অবদান সকল পাঠ্যপুস্তক, গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় স্থান করে দিতে হবে। এটা শহীদদের পরিবারের চাহিদা নয়, এটা আগামী প্রজন্মের চাহিদা। যেনো পরের প্রজন্ম জানতে পারে, আমাদের আগের প্রজন্মের যুবকরা, মানুষরা হকের পক্ষে নিজেদের বুক পেতে দিয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন এর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্ম-পরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহামেদ, ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম, জেলা আমির মুমিনুল হক, মহানগরীর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ম, ইসলামী ছাত্রশিবির নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সভাপতি আসাদুজ্জামান রাকিব, জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি জাকির হোসাইন, মহানগর জেলা সহকারী সেক্রেটারি জামাল হোসাইন ও আবু সাঈদ মুন্নাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যগন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরী শাখার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন