ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের-সবখবর

ইমক্যাব এর সাথে মতবিনিময়, আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ধরে রাখতে পারেনি : জামায়াতের আমীর

প্রতিবেদক
বার্তা বিভাগ
আগস্ট ২৭, ২০২৪ ১১:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

মনির হোসেন ।। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো, কিন্তু তারা তাদের অর্জন ধরে রাখতে পারেনি। জনগণ আওয়ামী লীগকে কিভাবে দেখে, তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে কিভাবে দেখে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতে অবস্থান সম্পর্কে আমীরে জামায়াত বলেন, সাড়ে পনেরো বছর দেশ শাসন করে লক্ষণ সেনের মত দেশ ত্যাগ করা উনার জন্য মানানসই হয় নাই। জামায়াত নেতারা কখনো দেশ ত্যাগ করেননি। তারা মোকাবেলা করেছেন। আমাদের নেতৃবৃন্দ জেল-জুলুম বুকে ধারণ করে দেশেই ছিলেন। কখনো দেশ ত্যাগ করেননি।

২৭ আগস্ট মঙ্গলবার, মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ইমক্যাব)-এর সাথে এক মতবিনিময় সভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। এ মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ। ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ইমক্যাব)-এর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, কুদ্দুস আফ্রাদ, মাসুম বিল্লাহ,বাসুদেব ধর, প্রদীপ্ত নারায়ণ, ফরিদ হোসেন, রাজিব খান, মিজানুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, আবু আলী, আমিনুল হক ভূইয়া,  মোঃ মনির হোসেন, সিয়াম সরোয়ার জামিল, কাউসার আযম, তারিকুল ইসলাম, রাজীব খান, শাহীন পারভেজ, জাকির হোসেন প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন,জামায়াত কখনো ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত ছিলো না, এখনো নেই। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলছি, যদি কোথাও প্রমাণিত হয় যে, আমাদের একজন কর্মী সন্ত্রাস করেছে, তা হলে আমরা জাতির কাছে ক্ষমা চাইবো এবং নিজেরা নিজেদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করবো। তিনি বলেন, জামায়াত সর্বদাই গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছে। জামায়াতের দু’জন মন্ত্রী সরকার পরিচালনায় ছিলেন। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কখনো তাদের স্পর্শ করেনি। জামায়াত দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেছে। দুঃখ, মুসিবতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশের কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে আমাদেরকে অপবাদ দেয়া হতো। এমনকি গাইবান্ধায় যখন একজন এমপি নিহত হলেন, তখন সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী হত্যার জন্য জামায়াতকে দায়ী করলেন। পরবর্তীতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জন্য দায়ী করে সরকার ১ আগস্ট অন্যায়ভাবে নির্বাহী আদেশবলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, যা দল হিসেবে আমাদের উপর সবচাইতে বড় জুলুম। আমরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর, সহায় সম্পদ, ধর্মীয় উপাসনালয় পাহাড়া দিয়েছি যাতে কেউ ভাঙচুর করতে না পারে। আমরা বিশ্বাস করি সকল মানুষ সমান। এখানে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘুর কোন প্রশ্ন নেই। নাগরিক হিসেবে সকলেই সমান অধিকার পাবেন এটাই স্বাভাবিক। আমরা চাই দেশে দ্রুত শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসুক। দেশের সংবিধান, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংস্কার হওয়া দরকার। দল বা ধর্মের ভিত্তিতে কোন বিভাজন করা যাবে না। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা দল হিসেবে সকলের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা অসত্য বা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে কাউকে হয়রানি করা পছন্দ করি না। জামায়াত কখনো কোন হয়রানিমূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না, এখনো নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে আমীরে জামায়াত বলেন, বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। একজন প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। দেশে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন সিষ্টেম বলতে কিছু নেই। পুলিশ বাহিনী জনগণের বন্ধু না হয়ে শত্রুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের জন্য যৌক্তিক সময় দিতে হবে। দেশকে সংস্কার করতে হবে। এই মুহূর্তে জামায়াতের প্রধান কাজ হলো ছাত্র-জনতার বিপ্লবে নিহত, আহত ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।

গত সোমবার ২৬ আগস্ট ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভিএসি) ভেতরে যে বিক্ষোভ হয়েছে তা ‘সাংঘর্ষিক’ বলে নিন্দা জানান জামায়াত আমির। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমার মনে হয় না সুস্থ মনের কোনো মানুষ এটা করতে পারে। যারা এই কাজ করেছেন, তাদের ক্ষমা করা যায় না। বিক্ষোভকারীদের ‘ভারতীয় দালালরা… সাবধান’ এবং ‘আমরা ভিসা চাই’ স্লোগানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শফিকুর বলেন, তাদের দাবি পরস্পরবিরোধী। তারা কীভাবে কিছু ভারতীয় দালাল বলে সম্বোধন করে একই সঙ্গে ভারতীয় ভিসা চায়? তিনি বলেন, আমরা কাউকে কোনো দেশের দালাল হিসেবে ট্যাগ দিতে পছন্দ করি না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

সীমান্তবর্তী ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর বাঁধ দিয়ে ভারতের পানি ছেড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে বিশেষ করে ফেনী ও কুমিল্লায় চলমান ভয়াবহ বন্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাই একমাত্র কারণ নয়। তিনি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার জন্য তিনটি বিষয়কে দায়ী করেছেন- অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, হঠাৎ করে বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়া এবং ভারতের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কতার অভাব। বোঝাই যাচ্ছে, পানি ছাড়ার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ভারত নিম্ন অববাহিকার বাংলাদেশকে আগেই সতর্ক করতে পারত। বলেন, প্রতিবেশীদের একে অপরকে সাহায্য করতে হবে। শফিকুর রহমান বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তার দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তার দলের নেতাকর্মীরা কীভাবে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ হিন্দু মন্দিরগুলো পাহারা দিয়েছে তার বর্ণনা দেন তিনি।

 

 

 

 

শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন