ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের-সবখবর

১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন, সবাইকে নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

প্রতিবেদক
বার্তা বিভাগ
ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ ৪:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

ইন্দো বাংলা সংবাদ।। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব আমরা, যা একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে ও ঘরে ফিরে আসতে পারে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ৭১এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তিনি বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে। তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ গড়ে তুলবে উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি পরপর তিনবার বলেন ‘আমরা দেশের শান্তি চাই’।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হন। তিনি বলেন, ‘সন্তান হিসেবে আমার মন মায়ের হাসপাতালের বিছানার পাশে পড়ে আছে। কিন্তু তিনি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোকে ফেলে আমি যেতে পারি না। সেজন্য হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি।’ তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। সবশেষে তিনি যেকোনো উস্কানির মুখে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমাদের দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। ধর্ম, দল বা শ্রেণী নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, এটাই হোক আমাদের চাওয়া।
এদিন, বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক অগণিত মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে, তিল পরিমান ঠাই নেই। মঞ্চ প্রস্তুত করে বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কনকনে শীত উপেক্ষা করেই হাজার হাজার সমর্থক নিজস্ব উদ্যোগে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস নিয়ে পূর্বাচলে পৌঁছাচ্ছেন। প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ঢাকা ও আশপাশের থেকেই সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে সরেজমিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিপুল উপস্থিতি দেখা গেছে। মানুষের ঢলে পুরো এলাকা ভরে যায়। মঞ্চের সামনে ও আশপাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো জায়গা ছিল না।

মাকে দেখতে এভারকেয়ারে তারেক রহমান : দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মায়ের কাছে ফিরেছেন তারেক রহমান। পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এসেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিকেলে বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেছেন তারেক রহমান। বক্তৃতা শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে রওনা দেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিলেটে প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ডের পর তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে এবং বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বিমানবন্দর থেকে লালসবুজ রঙের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা বাসে করে রাজধানীর জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিনি বাসের সামনের অংশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে লাখো জনস্রোতের অভিবাদন গ্রহণ করেন। সেখান থেকে জনস্রোত এড়িয়ে এভাকেয়ারে পোঁছাতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যায়।

শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন