শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন
ফারিন বিনতে শারমিন।। আওয়ামী পরিবার থেকে মোঃ সাদ্দাম হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব হওয়ায় অনেকের গায়ের জ্বালা বেড়ে গেছে। নিন্দুকেরা গঠনতন্ত্রের ছুতা তুলে তাকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মোঃ সাদ্দাম হোসেন এসবের তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আগামী ডিসেম্বরে সম্মেলন সফল করার জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের কার্যক্রম দীর্ঘদিন যাবত ঝিমিয়ে পড়েছে। তাই সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীলতা আনতে গত ২৬ মে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক কে এম আজম খশরুর স্বাক্ষরকৃত প্যাডে ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ছয় মাসের জন্য ওই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। কমিটিতে সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারীকে আহ্বায়ক ও মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে সদস্য সচিব এবং ১৩ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক রেখে এই ২৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর মোঃ সাদ্দাম হোসেন তৃনমূলের সকল নেতা-কর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেও অনেকের গায়ের জ্বালা বেড়ে গেছে। তারা চায়না সে উপরে উঠুক বা ভালো দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকের সেবায় মনোনিবেশ করুক। সরেজমিনে দেখা গেছে প্রায়ই প্রতিদিনই বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা ফুল নিয়ে তার অফিসে এসে সাক্ষাত করছেন,দোয়া করছেন এমনকি থানা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অথচ কখনো জামাত,কখনো বিএনপি আবার কখনো অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে নিন্দুকেরা নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে,আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি ২০০৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিগত ১৮ বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের কোনো কমিটি না হওয়ায় তিনি কোনো পদে যুক্ত হতে পারেননি। শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব হতে হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রথমে সদস্য হওয়া লাগে এমন নিয়ম শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্রের কোথাও নেই বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমার আপন বড় চাচা আলমাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন এবং আমার পরিবার সবসময় শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর আমি নিজেও ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে রাজপথে প্রথম সারিতেই ছিলাম। তাছাড়া কেন্দ্র ঘোষিত কমিটিতে সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারীকে আহবায়ক করা হয়েছে। তিনি নিজেই কেন্দ্রের চিঠি গ্রহন করে সম্মেলন কিভাবে সফল করা যায় তার দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। অথচ আবার গনমাধ্যমে বলে বেড়াচ্ছেন ,এ বিষয়ে তিনি নাকি তেমন কিছুই জানেন না। আমি বিষয়টি আমার কেন্দ্রীয় কমিটির জাতীয় নেতৃবৃন্দের উপরই ছেড়ে দিলাম। ওনারাই এর ভাল-মন্দ বিবেচনা করবেন।
অপরদিকে, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আদমজীর প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, জাতীয় শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্র অনুসরন করেই সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর যাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই তাকে এ পদ দেওয়া হয়েছে। এ বছরের ডিসেম্বর মাসে শ্রমিক লীগের সম্মেলন হবে সে জন্যই এই আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর এ আহবায়ক কমিটি মাত্র ৬ মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত কমিটি গঠন করা হবে। তাই এ কমিটি নিয়ে উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, সাদ্দাম হোসেনের পুরো পরিবার শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি যখনই সিদ্ধিরগঞ্জের শ্রমিকলীগের প্রোগ্রামে যেতাম তখন সাদ্দামকে ফিল্ডে পেতাম। এ কমিটি দেওয়ার পর থেকে সাবেক সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী কেনো এমন করছে তা আমার জানা নেই। তাকেতো আহবায়ক করা হয়েছে,বাদতো দেয়া হয়নি। আহবায়ক আর সভাপতির দায়িত্ব কি এটা তাকে আগে উপলব্দি করতে হবে বলে আমি মনে করি।
শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন
