শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন
ইন্দো বাংলা সংবাদ।। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে, সে বিষয়ে এ বাহিনীর সদস্যদের খেয়াল রাখতে বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনগণের সঙ্গে না মিশলে একজন রাজনীতিকের অবস্থা ‘জলের মাছ ডাঙায় ওঠার’ মত অবস্থা হয় মন্তব্য করে সব সময় জনগণের সঙ্গে থাকার প্রত্যাশার কথা বলেছেন তিনি।
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফ এর ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখতে হবে, আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য। জনগণের সাথে একটু কথা বলা, জনগণের সাথে একটু মেশা, এটাই একমাত্র কাজ। এটাই আমাদের শক্তি। আর কোনো শক্তি কিন্তু নেই।এই জনগণই আমাদের প্রাণশক্তি। তাদের জন্যই রাজনীতি। কাজেই আমি শুধু ওইটুকু চাই যে, মানুষ থেকে যেন বিচ্ছিন্ন না হই বা মানুষ যেন আমার কাছে আসতে কোনো আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,বিরোধী দলে যখন ছিলাম, মানুষকে কী দিতে পেরেছি, একটু কথা, একটা আস্থা বা মানুষের বিশ্বাস অর্জন। সেই জনবিচ্ছিন্ন যেন না হয়ে পড়ি, এটা একটু দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীত্ব নিজের কাছে ‘ভোগের কোনো বস্তু নয়’ মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫৪ সালে মন্ত্রী ছিলেন, এরপর ৫৬-৫৭ পর্যন্ত মন্ত্রী ছিলেন। পরে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু পাঁচ ভাই-বোন কখনোই ক্ষমতা ভোগ করার কথা কখনো চিন্তাই করিনি। এটি বাবা-মায়ের নির্দেশ ছিল।
দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার পরও জীবন যাপনের ধরনে কোনো ‘পরিবর্তন হয়নি’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন,আমার কাছে একটাই ক্ষমতা, জনগণের জন্য কাজ করব, জনগণের কল্যাণ করব, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করব। যেটা আমার বাবা শিখিয়েছেন, মা শিখিয়েছেন, সেটাই আমরা করব।কাজেই, আমি শুধু ওইটুকু চাই যে, মানুষ থেকে যেন বিচ্ছিন্ন না হই, বা মানুষ যেন আমার কাছে আসতে যেয়েৃ কষ্ট না পায়, সেদিকে একটু সবাইকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আমার অনুরোধ থাকবে…। এইটুকুই চাই, নইলে শেষে আমরা ওই যে জলবিহীন মাছের মতো নিজে কষ্ট পাব।
বাংলাদেশে যেসব বিদেশি অতিথি আসেন, তারা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ভূয়সী প্রশংসা করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও এ বাহিনীর পারদর্শিতা দেখে গর্ব বোধ করেন । কাজেই, এটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে, পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশপাশি চারিত্রিক দৃঢতা, সততা শৃঙ্খলা সবকিছু মেনেই চলতে হবে। আমাদের এসএসএফ সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।
এসএসএফ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন, সেজন্য তাদের ‘দোয়া’ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।আমি আমার ছেলে-মেয়ের জন্য যেমন দোয়া করি, নাতি পুতির জন্য যেমন দোয়া করি, তেমনি ঠিক সেই রকমভাবে আমার সাথে যারা কাজ করেন, প্রত্যেকের জন্য আমি দোয়া করি। এসএসএফের জন্য বিশেষ করে দোয়া করি। যেন আমার কারণে যেন কেউ কোনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা আমার নিরাপত্তা দিতে গিয়ে যেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা সব সময় আমি চিন্তায় রাখি।
শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন
