শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন
ইন্দোবাংলা সংবাদ ।। বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার আলোচিত তিন বিঘা করিডরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শুক্রবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিন বিঘা করিডরে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরে বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশিদের চলাচলের পথটি দুই ঘণ্টা বন্ধ করে দেয় বিএসএফ।
সীমান্ত সূত্র জানায়, বেলা ১১টায় বিএসএফের বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তিন বিঘা করিডরে আসেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হেলিকপ্টার থেকে নেমে কোচবিহার জেলার তিন বিঘা করিডর পথ পরিদর্শনে এলে তাকে স্বাগত জানান বিএসএফের ডিজি পঙ্কজ সিং, ভারতের উত্তরবঙ্গের আইজি অজয় কুমার সিং, কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান, পুলিশ সুপার সুমিত কুমার। এ সময় ভারতীয় ৬ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ সদস্যরা করিডোরের চারদিক শামিয়ানা দিয়ে ঘিরে রাখেন।
করিডরে বিএসএফের বৈঠকখানা কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন অমিত শাহ। বৈঠকে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বিজেপির রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিন বিঘা করিডর এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজখবর নেন। করিডর এলাকায় তিনি একটি গাছ রোপণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকান্ত মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, দুইদিনের সরকারি সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসেন অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার সকালে বিমানযোগে পশ্চিমবঙ্গ আসেন তিনি। এদিন তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে বিএসএফের বিশেষ হেলিকপ্টারে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জে যান। সেখানকার সীমান্তবর্তী নদী এলাকা পরিদর্শন করে বিএসএফের বোট অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান ছয়টি আউট পোস্টের উদ্বোধন করেন। এরপর নৌপথে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও মহকুমার হরিদাসপুরে যান। সেখানে বিএসএফের একটি জাদুঘরের উদ্বোধন করে বিএসএফের বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে নদিয়া জেলার কল্যাণীতে যান। সেখানে বিএসএফের একটি অনুষ্ঠান যোগ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিস্তা ব্যারেজ ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজমল হোসেন খান বলেন, তিনবিঘা করিডরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেছেন। কিন্তু কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা আমরা জানি না। তা ছাড়া ওই বৈঠকে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এজন্য আমরা সেখানে যাইনি। লে. কর্নেল আজমল হোসেন খান আরও বলেন, ভিভিআইপি বৈঠকের কারণে কিছুক্ষণ তিনবিঘা করিডর দিয়ে মানুষসহ সবকিছু চলাচল বন্ধ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। কেন এমন হয়েছে, বিএসএফের কাছে পরবর্তী সময়ে নিয়ম অনুযায়ী জানতে চাওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, বৈঠকের সময় কোনও লোকজন পারাপার হতে পারেনি। কোন বিষয়ে তিনবিঘা করিডরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, সে বিষয়েও আমাদের অবগত করা হয়নি। ইতোপূর্বে অনেক বৈঠক হয়েছিল কিন্তু এভাবে কখনও প্রাচীর করা হয়নি। আমরা এ বিষয়ে জানতে চাই।
এদিকে, এ বিষয়টি নিয়ে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করা হলে একটি সূত্র জানায়, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়টি দেশটির ফরেইন উইংকে জানানো হয়নি। সে কারণে দূতাবাসের কোনও দায়িত্বশীল ব্যক্তি মন্তব্য প্রদানে সম্মতি দেননি।
শেয়ার👍দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন
